Skip to content

ইঞ্চি ইঞ্চি করে ভারত সীমান্তে জমি দখল করছে চীন! – DBC NEWS

    ভারত-চীন সীমান্ত নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই অরুণাচল প্রদেশের এক আদিবাসী নেতার মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, অরুণাচলের তাকসিং এলাকায় চীন অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তাদের ভূখণ্ড দখল করে নিচ্ছে। সংগঠনের অভিযোগ, `ভারত সীমান্তে ইঞ্চি ইঞ্চি করে জমি দখল করছে চীন।' আদিবাসী নেতাদের এই বিস্ফোরক মন্তব্য কেন্দ্র ও নিরাপত্তা মহলে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি কেরু চাদের এবং সাধারণ সম্পাদক তাশে চাদের স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া এক স্মারকলিপিতে অভিযোগ করেছেন যে, বিগত দশ-পনেরো বছরে চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) তাদের সীমান্ত এলাকায় আগ্রাসী ভূমিকা নিয়েছে।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আসাফিলা এলাকার সারি-ওভিং, পানিয়ার, মারপান, পোত্রাং এবং তিনদিংতাং-এর মতো এলাকাগুলো এক সময় স্থানীয় আদিবাসীদের বিচরণ ও শিকারের ক্ষেত্র ছিল। অভিযোগ, এখন সেখানে চীন শুধু সামরিক শিবিরই স্থাপন করেনি, বরং সুসংযুক্ত পাকা রাস্তাও তৈরি করেছে। স্থানীয় নেতাদের মতে, এটি কেবল আকস্মিক অনুপ্রবেশ নয়, বরং অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে সীমান্ত এলাকায় ভারতের জমি গিলে ফেলার একটি কৌশল।

    আদিবাসী নেতাদের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সীমান্ত এলাকার বর্তমান পরিস্থিতির দিকে আলোকপাত করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, সীমান্ত এলাকায় পরিকাঠামো নির্মাণে ভারত কিছুটা দেরিতে শুরু করেছে। তিনি ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকাকে বলেন, দেরি হলেও আমরা এখন সীমান্ত এলাকায় রাস্তাঘাট ও পরিকাঠামো তৈরির কাজ জোরদার করেছি। আমরা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছি। রিজিজু উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালের আগে পর্যন্ত তাকসিং এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না, যা এখন উন্নয়নের আওতায় এসেছে।

    এদিকে, আদিবাসী নেতাদের এই দাবির প্রেক্ষিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘অরুণাচল প্রদেশে চীনা পিএলএ-র অনুপ্রবেশ এবং শিবির স্থাপনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসঠিক এবং ভিত্তিহীন।’ সরকারি একটি সূত্রও জানিয়েছে যে, বিতর্কিত এলাকা হিসেবে পরিচিত আসাফিলাতে চীন কোনো স্থায়ী স্থাপনা গড়তে পারেনি। তবে সীমান্তে সেনাবাহিনী এবং ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে।

    ভারত ও চীনের মধ্যে ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আজও পুরোপুরি চিহ্নিত হয়নি। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা নিয়ে দুই দেশের দাবির ফারাকের কারণে অরুণাচলের ৯০,০০০ বর্গ কিলোমিটার ভূখণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। একদিকে সরকারি দাবি, অন্যদিকে স্থানীয় আদিবাসীদের জীবন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার বয়ান-এই দুইয়ের টানাপোড়েন অরুণাচল সীমান্তকে করে তুলেছে অত্যন্ত সংবেদনশীল।

    আদিবাসী নেতাদের দাবি, তারা তাদের পূর্বপুরুষদের জমিও আর ভোগ করতে পারছেন না। এখন দেখার বিষয়, স্থানীয়দের এই ‘বিস্ফোরক’ অভিযোগের পর কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও টহলদারি আরও জোরদার করতে কী ধরণের কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়।

    Source:Original article